| বঙ্গাব্দ

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক: দুর্নীতি অব্যাহত আছে, কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ সরকার | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 08-12-2025 ইং
  • 3194447 বার পঠিত
টিআইবি নির্বাহী পরিচালক: দুর্নীতি অব্যাহত আছে, কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ সরকার | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: টিআইবি নির্বাহী পরিচালক

দুর্নীতি অব্যাহত আছে, কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ সরকার: টিআইবি নির্বাহী পরিচালক

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ, এসইও এক্সপার্ট ও ডিজিটাল মার্কেটিং স্পেশালিস্ট

ঢাকা: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দেশে দুর্নীতি অব্যাহত আছে। রাজনৈতিক ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন মহল দলবাজি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে, যা সরকারের অভ্যন্তরেও উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। তিনি মনে করেন, এই সরকারের আমলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তারা সে ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দুর্নীতির তুলনামূলক তথ্য নেই, তবে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

‘সুশাসিত, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের অঙ্গীকার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহার প্রণয়নে টিআইবির সুপারিশ’ শিরোনামে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়েছে নাকি কমেছে, সে বিষয়ে তুলনামূলক তথ্য আমাদের কাছে নেই। এটি নিয়ে টিআইবি কাজ করছে। কিন্তু এটা বলতে পারি, দুর্নীতি অব্যাহত আছে। রাজনৈতিক ও সরকারি স্পেসের ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে বিভিন্ন মহল দলবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। সরকারের অভ্যন্তরেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে, এটা উদ্বেগজনক।"

তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে আরও কঠোরভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু "সে ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।"

দীর্ঘ প্রক্রিয়া: সুশাসন প্রতিষ্ঠা জাদুর কাঠির বিষয় নয়

বাংলাদেশের সুশাসন ও গণতান্ত্রিক অবস্থার ওপর আলোকপাত করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত ১৫ বছরের যে জঞ্জাল, তা কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশে সুশাসিত, গণতান্ত্রিক, দুর্নীতিমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজ চটজলদি সম্ভব নয়।

তিনি স্বীকার করেন, "এটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিষয়, এটা মানতে হবে। তবে এই সুযোগটা তৈরি হয়েছে।"

এই সুযোগ রাজনৈতিক দলগুলো কতটা কাজে লাগাবে, তা নির্ভর করবে তাদের কার্যপদ্ধতির ওপর, বিশেষ করে নির্বাচনে এবং এর পরে অর্থ, পেশি ও ধর্মের প্রভাব কতটুকু তাদের প্রভাবিত করবে, তার ওপর।

ব্যবসা খাতে সংস্কারের গুরুত্ব ও কর্তৃত্ববাদের উত্থান

ব্যবসা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান জোর দিয়ে বলেন, এটি অনেকটা রাজনৈতিক দলের সংস্কারের মতোই। এটি ভিতর থেকে আসতে হবে, তাদের নিজেদের উদ্যোগেই করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায় উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে চূড়ান্ত বিবেচনায় ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবেন। কিন্তু গত ১৫ বছরে এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। তিনি বলেন:

"এটা না করা গেলে একশ্রেণির ব্যবসায়ী লাভবান হন, অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, যেটা গত ১৫ বছরে দেখা গেছে। এর ফলে রাষ্ট্রকাঠামো দখল হয়েছে। কর্তৃত্ববাদ বিকাশের অন্যতম পিলার (স্তম্ভ) হিসেবে ব্যবসা খাতের একাংশ কাজ করেছে।"

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও কূটনৈতিক পরাজয় প্রসঙ্গে

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে ভারত এখন পর্যন্ত তাদের 'সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পরাজয়' স্বীকার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "ভারত এমন দেশ নয়, যারা সহজে এটা স্বীকার করবে। কিন্তু সেটার অর্থ এই নয় যে- এটার কারণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে না।" তিনি মনে করেন, দুই পক্ষের উচ্চ অংশীদার ও সহযোগিতার ক্ষেত্র আছে। তবে তাঁর মতে, ভারত যদি কর্তৃত্ববাদের পক্ষে অবস্থান থেকে সরে এসে আরও বেশি বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান নিতে পারত, তাহলে সেটি বাংলাদেশের পক্ষে সহজতর হতো।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য টিআইবির ৫২টি প্রস্তাব

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মোট ৫২টি প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে প্রথম সাতটি প্রস্তাব পড়ে শোনান ড. ইফতেখারুজ্জামান।

উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • জুলাই জাতীয় সনদ ও এর বাইরে থাকা সংস্কার কমিশনগুলোর বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা।

  • জুলাই সনদসহ অন্যান্য সংস্কার কমিশনের ওপর ভিত্তি করে যেসব অধ্যাদেশ জারি ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো কার্যকর ও অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করা।

  • জুলাই গণ অভ্যুত্থান ও কর্তৃত্ববাদী সরকারের আমলের সব হত্যা, অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার অব্যাহত রাখা।

এ সময় টিআইবির উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের এবং আউটরিচ ও কমিউনিকেশন পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।


সূত্র (Sources)

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency